কেন আপনি উদ্যোক্তা হবেন?

এর আভিধানিক উত্তর ভিন্ন হতে পারে, আপনিও এক কথায় এর উত্তর দিতে পারেন বা সহজ ভাবে বললে আর্থিক ভাবে সচ্ছলতার জন্য আপনি উদ্যোক্তা হবেন। যেভাবেই বলেন না কেন এর উত্তর ঘুরে ফিরে একটাই হবে, কিন্তু তারপরও আমরা এর কিছু গভীর দিক ভিন্ন ভিন্ন কোণ থেকে আপনাদের সুবিধাতে তুলে ধরতে চেয়েছি।

এখন কথা হলো চাকুরি নামের সোনার হরিণ কিংবা একটি সেভ জোনে না গিয়ে ব্যবসা বা উদ্যোক্তার মত ঝুকিপূর্ন একটি পেশায় কেন নিজকে নিয়োজিত করতে চাচ্ছেন। এর ব্যাখ্যাও বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে দিয়ে আসছেন ও দিয়ে যাবেন , আমরা আজ আপনাদের সামনে সহজ ও সাবলীল ভাবে তুলে ধরব আপনি কেন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হবেন।

আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চাকুরির জন্য নির্মিত, কিন্তু ব্যবসার জন্য আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সহায়ক নয়। দেখবেন আমাদের দেশে ৩০ বছর বয়সে এসেও তরুণ সমাজ চাকুরির জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে। কিন্তু চাকুরির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা যদি ব্যবসার জন্যও সয়াহক হতো তাহলে ৩০ বছরের বেকার তরুন এই সমাজকে দেখতে হতো না। আমরা যখন কলেজের প্রত্যাবর্তন করি তখন থেকে যদি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা উদ্যোক্তা কিংবা ব্যবসার জন্য সহায়ক হতো তাহলে দেখা যেতো ২৫ বছর বয়সের পূর্বেই অর্থাৎ মাস্টার্স নামক সার্টিফিকেট গ্রহণের আগে আপনি বা আপনারা নিজের নামের পাশে একজন সফল উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী শব্দটি লাগাতে পারতেন। কিন্তু তার পরিবর্তে ৩০ বছর বয়সে এসে চাকুরীর জন্য কত আন্দোলন সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

একটা উদাহরন দিচ্ছিঃ- আপনার বয়স যখন ১৮ ধরে নিলাম তখন আপনি ইন্টার পাশ করে ভার্সিটিতে চান্স পেলেন বা পেলেন না বা প্রাইভেট বা জাতীয় ভার্সিটি যে কোন মাধ্যমে হোক আপনি অনার্সের স্টুডেন্ট হলেন।  অনার্স ও মাস্টর্স সহ আপনার সব মিলিয়ে ৫-৬ বছর সময় লাগবে, আর এই সময় টায় আপনি পড়া লেখা ব্যতীত অন্য কিছুতে মন দিচ্ছেন না, কারন এর পাশাপাশি কিছু করতে গেলে আপনার পড়া লেখার ক্ষতি হচ্ছে ভালো রেজাল্ট করতে পারবেন না। আপনি যখন মাস্টার্স শেষ করলেন ধরে নিলাম আপনার ৬ বছর লেগেছে তাহলে তখন আপনার বয়স হবে ২৪ বছর। ২৪ বছর বয়সে গিয়ে আপনি এখন বিভিন্ন জায়াগ চাকুরির জন্য আবেদন করবেন, বিভিন্ন কোর্স করবেন, স্কিল নিয়ে কাজ করবেন এইভাবে আরো ২-৩ বছর চলে যাবেই কোন ভুল নেই। একটা সময় দেখা যায় সর্বোচ্চ ছাত্র/ছাত্রীরা ২৭ এর পর জব পেয়ে থাকে। আর যারা জব পাচ্ছে না ২৭ বছর বয়সে এসে টাকা ইনকাম ছাড়া থাকা বড়ই কষ্টের ও লজ্জাজনক বিষয় আমাদের সমাজের জন্য। তখন সমজ বলতে শুরু করে কি করলা পড়ালেখা করে এখনো বেকার ঘুরছ।

কিন্তু আপনি যদি ১৮ বছর বয়সে ব্যবসা বা উদ্যোক্তা নিয়ে জানতে পারতেন বা এর জন্য সাপোর্ট গুলো পেয়ে থাকতেন তাহলে ২৪ বছর বয়সের পূর্বেই আপনি সার্টিফিকেট নয় সফল উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীর সম্মান গ্রহণ করতে পারতেন।

আমরা চাকুরি যেমন অর্থনৈত মুক্তির জন্য করে থাকি, ব্যবসাও আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে থাকে। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম। এছাড়াও ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে হুজুর (সা:) এর অনেক হাদীস রয়েছে, যা বিভিন্ন হাদীস শরীফে লিপিবদ্ধ আছে। একটু কষ্ট করে খুঁজলেই পাওয়া যাবে। নিচের পয়েন্ট গুলো যদি কোনটা আপনার মনে নাড়া দেয় বা জায়গা করে নেয় তবে বুঝতে পারবেন যে আপনিও উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হতে চাচ্ছেন।

উদ্যোক্তা হওয়ার কিছু মুল কারণঃ-

✔ ব্যাক্তি স্বাধীনতার জন্য

✔ নিজের হাতে গড়া ব্যবসা নিয়ে গর্ব করতে পারবেন, যেটা আপনি অন্যের অধীনে জব করে করতে পারবেন না।

✔ আপনি স্বাধীন ভাবে ভালো কিছু করতে পারবেন।

✔ আর্থিক স্বাভলম্বীর জন্য।

✔ আপনি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন, যা আপনাকে অন্যন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

✔ আপনি আপনার স্বপ্নকে লালন করে পুরন করতে পারবেন।

✔ আপনার নিজস্ব ব্যক্তি পরিচিতি থাকবে।

✔ দেশের অর্থনিতিতে আপনার অবদান থাকবে।

✔ আপনি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণ হবেন।

✔ আপনার হাত ধরে পৃথিবীতে পরিবর্তন আসতে পারে।

✔ ভবিষৎ প্রন্মের জন্য একটি ভালো অবস্থান রেখে যেতে পারবেন।

✔ আপনাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না।

✔ দেশ, সমাজ ও পৃথিবীর কিছু পরিবর্তন আপনার হাত ধরে হতে পারে।

✔ আপনার নিজের বলার মত কিছু একটা হবে, যা আপনি আপনার পরবর্তি প্রজন্মের সামনে গল্প করতে পারবেন।

✔ ব্যর্থতা থেকে কিভাবে ঘুরে দাড়াতে হয় আপনি সহজেই শিখে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here