আজকে তুমি না খেয়ে আছো, কেউ খোজ নিছে তোমার??

তোমার পরিবার আজকে কষ্টে আছে, করতে পারছো কিছু তুমি তোমার পরিবারের জন্য? পারছো বাবা মা এর হাতে ১০ টাকা তুলে দিতে বা বিপদে পাশে দাড়াতে?
নাকি এখনো ঘরের মধ্যে বসে মোবাইল টিপস? বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছো?
মানুষের চামচামি করছ ?
কোনটা ?

তোমার বাবা মা পেট ভরে খাইছে কিনা একবার জিজ্ঞেস করছ?
নাকি প্লেট আনে সামনে দিচ্ছে মোবাইলটা বাম হাত দিয়ে টিপছ আর নিজের পেট ভরাচ্ছ??

ভাই কেউ কারো না। তোমার জীবন টা তোমারই। তুমি যদি নিজেকে ডেভেলপ না করো, তুমি যদি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত না কর তাহলে তুমি আজকে সম্পর্ক গড়ার জন্য, নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য যাদের পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছো, নিজের পরিবার ক্যারিয়ার সব ভুলে একদিন তোমার বিপদ দেখে তারা এততো দুরে ছুটে পালাবে যে তুমি না পারবে চিৎকার করে কাদতে না পারবে নিজেকে বিপদ মুক্ত করতে। এমনও হতে পারে তারাই তোমার সব থেকে বড় শত্রু হয়ে গেছে। তখন তোমার বেচে থাকাটাই কষ্ট হয়ে যাবে। মন চাইবে মারা যায়। কিন্তু না পারবে মরতে না পারবে বাচতে।

আর সম্পর্ক আর নেটওয়ার্ক গড়ার পিছে না ছুটে, যদি নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পিছে ছুটো এবং প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাও তাহলে মানুষ তোমার পিছে ঘুরবে নেটওয়ার্ক গড়ার জন্য। যে নেটওয়ার্ক টা তখন তৈরি হবে সেটা এমন কাজে দিবে যা তুমি জীবনে কল্পনাও করতে পারবে না। কারন তোমার নেটওয়ার্কে থাকবে সব সফল মানুষ, তোমার থেকে বহু ভাল পজিশনে আছে এমন মানুষও থাকবে।

আসল হিরা কে কখনো মানুষকে চেনানো লাগে না, হিরা যদি নকল হয় তাহলে বার বার বলতে হয় এটা আসল, এটা আসল, এটা আসল। একটা কথা আছে, তুমি নিরবে কাজ করে যাও, তোমার সফলতা কে চিৎকার করে বলতে দাও তুমি সফল ।

নিজের বাপের পকেটের টাকা নিয়ে মানুষের মার্কেটিং করে বেড়িযেছো, মানুষের পিছে নষ্ট করছো ভাবছো আমি বহুত ভাল কাজ করছি। বন্ধু বান্ধবদের কাছে হিরো সাজছো, কুল হয়ছো। আজকে খেতে পাচ্ছো না। এখন তোমাকে কে সাহায্য করতে আসচ্ছে??

কাজ কে ছোট মনে করে বহু কাজ করো নাই। ইগো তে লাগে। বন্ধু-বান্ধব, সমাজ, আশেপাশের মানুষ কি বলবে এই ভেবে করো নি। মানুষের কথা শুনে পথ ছেড়ে চলে গেছো। আজকে কে আসচ্ছে তোমাকে সহযোগিতা করতে। নাকি বালিস চেপে ধরে কাঁদার জন্য জন্ম নিছেন? নাকি লোকের পিছনে চামচামি করার জন্য জন্ম হয়ছে??

ভাই কাজ করলে শরীর পচে যায় না। সন্মানও যায় না। দুনিয়ার যতো বড়ো মানুষ আছেন সবাই ছোট্ট থেকে শুরু করেছিলেন। আর যার সমালোচনার ভয়ে, যার সাথে সম্পর্ক রাখার ভয়ে তুমি কাজ ছেড়ে ফুটানি করে বেড়িয়েছো ভেবে দেখো সে কোথায় আছে। তার পজিশন কি? কোন কাজই ছোট নয়। ক্ষুদ্র থেকে শুরু করো ।

তুমি যদি প্রতিষ্ঠিত না হও এমন একটা সময় আসবে তোমার পরিবারও তোমাকে ছোট করতে ভাববে না, তোমার দিকে আঙ্গুল তুলতে দেরি করবে না। আবার তুমি সফল হলে সবাই অপেক্ষা করবে তুমি কি বলছ সেটা শোনার জন্য। তোমাকে নিয়ে গর্ব করবে। দুনিয়াটায় এমন।

ভাই প্রথমে চেয়ার না খুজে চাকরি বা কাজ খুজ। চাকরি বা কাজ টা ভাল করে কর চেয়ার এমনতি চলে আসবে। সেটা যদি জুতা সেলাইয়ের কাজও হয় সেটা তোমার পুরোটা দিয়ে করো । সফলতা চলে আসবে। “নাইক” কোম্পানির নাম পুরো দুনিয়া জানে একটা ছোট্ট ভাঙ্গা ঘরে বসে নিজে হাতে জুতা বানাতো সেলাই করতো আজ পুরো দুনিয়া নাইক কে চিনে। কাজ কখনোই ছোট নয়।

নিজেকে গড়ে তোলার জন্য কাজ করো । একজন সফল মানুষ হিসাবে আগে আত্মপ্রকাশ করো । এটার জন্য যত টুকু দরকার সে টুকু সম্পর্ক গড়ার পিছে সময় দাও । সফল হওয়ার আগে সম্পর্ক গড়া, নেটওয়ার্কিং করা, সেলেব্রেটি হওয়ার কোন দরকার নাই। তাহলে যদি সফল না হও মানুষ তোমাকে কখনোই সাহায্য করবে না। কারন তারা জানবে তোমার অনেক আছে। আর তুমি নিজেও মুখ ফুটে বলতে পারবে না যে তুমি বিপদে আছো, না খেয়ে আছো । আবার যখন জানবে তোমার নাই তখন তোমার থেকে ছুটে পালাবে। এইটাই বাস্তবতা।

যে কাজ পাও যে পাও সেটা শুরু করো। আস্তে আস্তে পথ তৈরি হয়ে যাবে।

করোনা হয়তো তোমাকে শোধরাবার জন্য আসচ্ছে। এখন বন্ধু চিনে নাও। ঘরে বসে ভাবো।

চিন্তা করো করোনা শেষ হলে নিজেকে কোথায় দেখতে চাও? নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসাবে গড়ে তোলো যেন আরো ১০ মানুষের কাজ দিতে পারো।

মানুষের পিছে না ঘুরে নিজের জন্য কিছু করো, নিজেকে সময় দাও মানুষ কে সময় দিয়ে লাভ নাই। তুমি যার বা যাদের পিছে ঘুরছ তোমার প্রয়োজন তার যখন ফুরিয়ে যাবে বা তুমি তার গোপন কিছু জেনে যাবে তখন সে তোমাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য হন্যে হয়ে যাবে । খোজ নিয়ে দেখ এমন ঘটনা বহুত আছে ।

সুতরাং জীবন তা তোমার, তোমার জীবনের সময় টাও তোমার, সেটা নিজের জন্য ব্যয় করো মানুষের জন্য না ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here