ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনি প্রস্তুত কি না অথবা ব্যবসা শুরু করার জন্য উত্তম সময় কোনটা এটা নির্ভর করে আপনার উপর। আপনি মানসিক ভাবে কতটা প্রস্তুত, ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনি যদি মানসিক ভাবে প্রস্তুত হয়ে যান তাহলে এরপরের ধাপ গুলো আপনি সহজে আয়ত্ত করতে পারবেন। আপনি মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পর যে ব্যবসা করতে চাচ্ছেন সেটা নিয়ে যথেষ্ঠ পরিমান সময় অতিবাহিত করুন, এর ভবিষ্যত ,কাস্টমার, বাজার বিশ্লেষণ, পন্যের সোর্স ও আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা ঠিক করুন।

আপনি যদি মানসিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক (বিবাহ বিচ্ছেদ, চাকুরি চলে যাওয়া, পারিবারিক অশান্তি ও অর্থনৈতিক চাপ) প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে সময় পার করেন তাহলে ওই মূহুর্তে ব্যবসা শুরু না করাই ভালো। কারন এই সময় আপনি কখনো সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে পারবেন না।

ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজন মানসিক শক্তি, ব্যবসার উপর সঠিক ধারনা, ব্যবসা করতে বয়স কোন বিষয় নয়। আপনি লক্ষ্য করে দেখবেন যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসে বয়সে ছোটরা ব্যবসায় অনেক ভালো করছে, এর মূল কারন তারা ব্যবসা নিয়ে যথেষ্ঠ ভাবছে এবং ব্যবসার জন্য প্রযুক্তি কে কাজে লাগাচ্ছে। একটা সময় ছিল যখন একটা নির্দষ্ট বয়সের পর মানুষ ব্যবসা করার কথা চিন্তা করত।

আপনি যদি সত্যিকার অর্থে একজন উদ্যোক্তা কিংবা ব্যবসায়ী হতে চান, নিজে আত্মনির্ভরশিল হতে চান তাহলে আপনার মানসিক প্রস্তুতির উপর নির্ভর করবে আপনি কখন ব্যবসা শুরু করতে চান। আপনার আইডিয়া ও মানসিক প্রস্তুতিই আপনার ব্যবসার মুল শক্তি। আপনার আইডিয়া ভালো হলে এবং আপনি মানসিক ভাবে সম্পূর্ন প্রস্তুত থাকলে অর্থনৈতিক সাপোর্ট আপনি কোন না কোন ভাবে পেয়ে যাবেন।

একজন ব্যবসায়ীর বা উদ্যোক্তার মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতেই হবে, যদি নিম্নক্ত বৈশিষ্ট্য গুলো আপনার মধ্যে বিদ্যমান থাকে তবে বলা যায় আপনি ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রস্তুত।

১। সৃজনশীল চিন্তাভাবনাঃ-
সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বলতে এক কথায় বুঝানো যায় যে, নতুন নতুন কিছু তৈরি করার মানসিকতা।

২। সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতাঃ-
একজন ব্যবসায়ী কিংবা উদ্যোক্তার জন্য সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর অপরিহার্য, আপনার মধ্যে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। ডিসিশন মেকিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা আপনার ব্যবসা কে রাতারাতি অনেক ভাল পজিশনে নিয়ে যেতে পারে আবার ভুল করলে আপনার পুরো জীবন নষ্ট করে দিতে পারে।

৩। ঝুঁকি গ্রহণের সাহসঃ-
উদ্যোক্তা কিংবা ব্যবসায়ী সবাই হতে চায়, সবাই চায় একক ক্ষমতার অধিকারী হতে , কিন্তু ঝুঁকি নেওয়ার মত সাহস সবার মধ্যে বিরাজমান নয়।

৪। দলগত কাজ করার মানসিকতাঃ-
আপনার মধ্যে যদি দলগত কাজ করার মানসিকতা সঠিক ভাবে বিরাজ না করে তবে আপনি উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রস্তুত নন।

৫। সুদূর পরিকল্পনাঃ-
আপনার চিন্তাশক্তি বা কল্পনাশক্তি হতে হবে সাধারণ মানুষ থেকে অনেক শক্তিশালী। আপনি যা পরিকল্পনা করবেন সেটা হতে হবে ভবিষৎ বিশ্লেষণ করে।

৬। নিজকে উপস্থাপনের দক্ষতাঃ-
অন্যের সামনে নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করার কৌশল থাকা বাধ্যতামূল।

৭। শক্ত মানসিকতাঃ-
আপনার মধ্যে যদি হার না মানার শক্ত মানসিকতা থাকে তবেই আপনি প্রস্তুত উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য।

৮। আত্মসমালোচনাঃ-
আপনি যখন আপনার পথে চলবেন পাশ থেকে অনেক কথা আসবে, কোন কথায় কান না দিয়ে নিজের সমালোচনা করতে হবে।

৯। বাস্তবতা পর্যবেক্ষণঃ-
আপনি যখন ভালো কিছুর জন্য ছুটবেন বাস্তবতা মেনে আগাতে হবে, কারন সব সময় সময় আপনার পক্ষে নাও থাকতে পারে। এতে ভেংগে পড়লে হবে না, বাস্তবতা গ্রহণ করতে শিখতে হবে।

১০। রাগ নিয়ন্ত্রণঃ
আপনার মধ্যে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা থাকতে হবে, কথায় কথায় বা অতিমাত্রার রাগ কখনো ভালো কিছু বহন করে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here