ব্যবসা কাকে বলে এর বিশ্লেষণ দেওয়ার কোন যুক্তি আছে বলে আমি মনে করিনা । ব্যবসার সংজ্ঞা আমাদের সবার কম বেশি জানা আছে। বইয়ের ভাষায় ব্যবসার সংজ্ঞা আমাদের সবার মুখস্থ, কিন্তু বইয়ের ভাষার বাহিরে যদি বলেত যাই তাহলে ব্যবসা বলতে আমরা বুঝি কোন পণ্য বা সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে আর্থিক ভাবে লাভোবান হওয়া ও কিছু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাওয়াকে আপনি ব্যবসা বলতে পারেন।

ব্যবসা কেন করবেন ?

এখন কথা হলো চাকুরি নামের সোনার হরিণ কিংবা একটি সেভ জোনে না গিয়ে ব্যবসার মত ঝুকিপূর্ন একটি পেশায় কেন নিজকে নিয়োজিত করতে চাচ্ছেন। এর ব্যাখ্যাও বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে দিয়ে আসছেন ও দিয়ে যাবেন , আমরা আজ আপনাদের সামনে সহজ ও সাবলীল ভাবে তুলে ধরব আপনি কেন ব্যবসা করবেন।

আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চাকুরির জন্য নির্মিত, কিন্তু ব্যবসার জন্য আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সয়াহক নয়। দেখবেন আমাদের দেশে ৩০ বছর বয়সে এসেও তরুণ সমাজ চাকুরির জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে। কিন্তু চাকুরির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা যদি ব্যবসার জন্যও সয়াহক হত তাহলে ৩০ বছরের বেকার তরুন এই সমাজকে দেখতে হতো না।

আমরা চাকুরি যেমন অর্থনৈত মুক্তির জন্য করে থাকি, ব্যবসাও আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে থাকে। আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম। এছাড়াও ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে হুজুর (সা:) এর অনেক হাদীস রয়েছে, যা বিভিন্ন হাদীস শরীফে লিপিবদ্ধ আছে। একটু কষ্ট করে খুঁজলেই পাওয়া যাবে।

এবার আসি মূল বিষয়ে, ব্যবসা কেন করবেন।

১। ব্যাক্তি স্বাধীনতার জন্য
চাকরি করলে আপনাকে আপনার দায়িত্ব আপনার উপরিউক্ত কর্মকর্তার  দেওয়া সময়ের মধ্যে অবশ্যই পালন করতে হবে । সঠিক ভাবে কাজ না করলে বড় বড় কথা শুনতে হতে পারে । আপনার কোন সমস্যা আপনার অফিসের কাছে কখনই বড় নয় । আপনি চাকুরি করে ঝুকি মুক্ত থাকলেও আপনার কোন ব্যক্তি স্বাধীনতা নাই । যেখানে আপনি একটি ব্যবসা করলে সেটা যতই ছোট হোকনা কেন সেখানে আপনি মুক্ত, আপনার স্বাধীনতা আছে ।

২। নিজের হাতে গড়া ব্যবসা নিয়ে গর্ব করতে পারবেন, যেটা আপনি অন্যের অধীনে জব করে করতে পারবেন না। প্রতিষ্ঠানের আপনার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আপনাকে ছুড়ে ফেলে দিবে, অন্য দিকে আপনার ব্যবসা যদি সুন্দর ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন সেটা আপনি মারা গেলেও আপনার পরিবার সেটা থেকে অর্থ পাবে । পরিবার সুন্দর ভাবে চলতে পারবে ।

৩। আর্থিক স্বাভলম্বী হতে পারবেন । একটি চাকুরি করে আপনি যে অর্থ উপার্জন করবেন সেই চাকুরি করা সময় দিয়ে একটি ব্যবসা করে আপনি কমপক্ষে তার দিগুন অর্থ উপার্জন করতে পারবেন ।

৪। আপনি বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন, যা আপনাকে অন্যন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে। একটা অন্য রকম সন্মান পাবেন যেটা আপনি চাকুরি বা অন্য কোন কর্মের মাধ্যমে পাবেন না ।

৫। আপনার নিজস্ব ব্যক্তি পরিচিতি থাকবে। যেটা পুরো দেশ জানবে এবং আপনাকে মূল্যায়ন করবে ।

৬। দেশের অর্থনিতিতে আপনার অবদান থাকবে।

৭। আপনি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণ হবেন । আপনি যখন একজন সফল উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হবেন তখন পুরো দেশ আপনাকে চিনবে । অনেক তরুন আপনাকে দেখে ঘুরে দাঁড়াবে । আপনি হবেন তাদের আইকন । তারা আপনাকে অনুসরন করে পথ চলবে । আপনাকে ভালবাসবে আপনাকে সন্মান করবে । যেটা আপনি অন্য কোন কাজের মধ্যে পাবেন না ।

৮। দেশ, সমাজ ও পৃথিবীর কিছু পরিবর্তন আপনার হাত ধরে হতে পারে।

৯। ভবিষৎ প্রন্মের জন্য একটি ভালো অবস্থান রেখে যেতে পারবেন। ধরুন  আপনি একটি কোম্পানির চাকুরি করছেন । বেতন ২০ হাজার টাকা । যেটা আপনার পরিবারের চলতেই খরচ হয়ে যায় । আপনি ভবিষ্যতের জন্য কোন কিছু জমা করতে পারছেন না । আপনি যখন মারা যাবেন বা অসুস্থ হয়ে পড়বেন তখন আপনার পুরো পরিবারটা অচল হয়ে যাবে । আপনার সন্তান একটি চাকুরি পেতেই তার জিবনের অর্ধেক সময় কেটে যাবে । অন্য দিকে আপনি যখন একটি ব্যবসা করছেন তখন আপনার ইনকাম বাড়ছে, আপনার নিজের একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে । আপনি অসুস্থ হলে আপনার পরিবারের কেও না কেও সেটা চালিয়ে নিতে পারবে এবং সচল থাকবে । আপনার সন্তানের চাকুরি খোঁজা লাগবে না । সে আপনার প্রতিষ্ঠানটিকে অনেক বড় করতে পারবে । ব্যবসা করলে আপনার পরিবারের ভবিষ্যৎ অনেক সুন্দর হবে । তারা একটি সেফ জোনে থাকবে ।

১০। ব্যর্থতা থেকে কিভাবে ঘুরে দাড়াতে হয় আপনি সহজেই শিখে যাবেন। আপনাকে দেখে শিখবে পুরো দুনিয়া ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here