Photo: Riva Mahmud

আমি রিভা মাহমুদ, একজন নারী উদ্যোক্তা। ছোট বেলা থেকেই আমার নিজের মধ্যে একটা ইচ্ছেশক্তি কাজ করতে  ছিল আমি চাকরি করবনা কিন্তু নিজে কিছু একটা করব। নিজে কিছু একটা করার মধ্যে আত্মতৃপ্তি থাকে, নিজকে খুজে পাওয়া যায়, নিজের মনের প্রতিটি ছোট বড় স্বপ্নকে পরিক্ষা করা যায়। ছোটবেলার সেই ইচ্ছে শক্তি কে আমি কখনো মরে যেতে দেইনি, আমার পড়া-লেখা, বিয়ে ও সংসার সব কিছুর মাঝেও আমি সময় পেলেই আমার স্বপ্নকে লালন করে বাচিঁয়ে রাখতাম। কারন আমার ইচ্ছেশক্তি ছিল প্রবল, আমি এইটা বিশ্বাস করতাম প্রবল ইচ্ছাশক্তি একদিন আমাকে সফলতার পথ দেখাবেই। সবাই যখন পড়ালেখা ও সংসার সামলানোর পর অবসর সময়কে বিনোদনের খোরাক করে নিয়েছে, আমি আমার অবসর সময়কে আমার স্বপ্ন লালনে ব্যায় করেছি।

R I V A J Fashion Bar’s model

আমার শখ ছিল ডিজাইন করা, ডিজাইন করতে আমার ভালো লাগতো, আর ডিজাইনকে আমি ভালোবাসতাম। সেটা যে কোন ডিজাইন হোকনা কেন, কোন কিছুর নকশা, বিয়ে বাড়িতে আলপনা, বিভিন্ন পেটার্ন এর পোশাক ডিজাইন করা। ছাত্রী জীবনে পড়ালেখার ফাকে আড্ডা না দিয়ে বাসায় বসে বিভিন্ন নকশা করা আমার কাছে আড্ডার মতই লাগতো। আমি যখন থেকে একটু ভালো আঁকাআঁকি ও ডিজাইন করতে শিখেছি, তখন তো উদ্যোক্তা কি এর নামই শুনিনি বা বুঝতেও পারতাম না।

আমি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কোন দিনও ডিজাইন শিখিনি, আমার শখ, আমার স্বপ্ন, আমার ইচ্ছাশক্তি ও আমার সাধনা আমাকে আমার মত করে একজন ডিজাইনার হিসেবে গড়ে তুলেতে সহায়তা করছে”

Photo: Uttara club Fashion Show – 2018
Shop: R I V A H Fashion Bar

আমি ছোটবেলা থেকে নিজে নিজেই আঁকতাম, নিজের ড্রেস এবং অন্যদের ড্রেস ডিজাইন করে দিতাম এভাবেই চর্চা করা হত। একটা মজার ঘটনা বলি, আমি প্রচুর নকশা আকঁতাম আর সেটা আমার অংক খাতা বা যে কোন সাদা কাগজ পেলেই। অনেক বছর পর দেখলাম আম্মুর কাছে সেই নকশার কাগজ গুলো। আম্মু যেখানে যা পেত তা সংগ্রহ করে রাখত, আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। আবার অনেক অনুপ্রেরনা কাজ করছিল, মায়ের যত্ন করে রাখা আমার নকশা গুলোই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করে।

Photo: Uttara club Fashion Show – 2018

এইচএসসি পরীক্ষার পর আমি  মৌচাক ইউনিভার্সিটির কোচিং করতে একটা কোচিং এ ভর্তি হই। আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই ফ্যাশন হাউজ কে-ক্রাফট চোখে পরত। একদিন আমি আমার ডিজাইন করা কিছু জিনিস নিয়ে ফ্যাশন হাউস কে-ক্রাফট এ গেলাম, তখন ওরা আমা কাজ দেখে বলল ওদের ওখানে জয়েন করতে, কারন তারা তখন তরুণ ডিজাইনার দের একটা সুযোগ দিচ্ছিল। কিন্তু ওই সময়টায় আমার বিয়ে হয়ে গেলে তাদের সাথে আমার আর কাজ করা কার হয়ে উঠেনি। বিয়ের পর আমি ২বার বুটিক এর কাজ শুরু করি, কারন আমার নেশা ছিল ডিজাইন করার, তখন দেশি কাপড়, বাটিক,ব্লক ও এপলিকের কাজ করতাম। কিন্তু আমার নিজের লেখা পরা, বেবিদের লালন পালন এসবের জন্য বিজনেস শুরু করেও বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

আমার মাঝে আমার স্বপ্ন ও ইচ্ছাশক্তি আমাকে সবসময় বলত তোমাকে চুপকরে থাকা মানায় না্। তুমি শুরু কর, মনে হতো প্রতি মূহুর্তে আমাকে কেউ একজন তাড়া করছে পিছন থেকে নতুন করে শুরু করার জন্য। মন, স্বপ্ন আর ইচ্ছাশক্তির কাছে আমি হেরে গিয়ে আবার ২০১৬তে শুরু করলাম । প্রথম পাকিস্তানি সালোয়ার-কামিজ দিয়ে শুরু করলাম, তখন নিজে ডিজাইন করে ড্রেস বানানো সম্ভব ছিল না, কারন আমার ছোট বেবিটার ৬মাস বয়স ছিল তখন। কিন্তু আমার বিজনেস না ডিজাইন নিয়ে কাজ করা ছিল শখ তো আর বন্ধ রাখা যায় না , কারন এটাতো আমার কাছে নেশার মত হয়ে গেছে। বেবি টা একটু বড় হলে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর /অক্টোবর এর দিকে ভাবলাম আবার নিজে ডিজাইন করা শুরু করব। তখন ইচ্ছে হল মডেস্ট পোশাক নিয়ে কাজ করি। ৩ টি আবায়া বানালাম, একটা পেজ ওপেন করেছিলাম আগেই R i v a J fashion bar নামে, আবায়া ফেজবুক পেইজে পোস্ট করলাম, সবাই খুব পছন্দ করল এবং অনেক প্রশাংসার কমেন্ট ও পেলাম। তার পর আরো ৭টা( শ্রাগ, কটি,আবায়া) মডেস্ট পোশাক বানিয়ে পেইজে পোস্ট করলাম, এইগুলোও সবাই খুব পছন্দ করল, অনুপ্রেরণা দিল। এভাবেই আস্তে আস্তে অনলাইন বিজনেসটা ফেসবুকে চলতে থাকে, শখের একটা বিজনেস ছিল আমার। যেহেতু আমি একজন ফ্যাশন ডিজাইনার তাই আমি ২০১৮ সালে উত্তরা ক্লাবে অনুষ্ঠিত ফ্যাশন ডিজাইন শোতে অংশগ্রহণ করি। অনলাইনে আমার ব্যবসাটা ভালোই চলতে ছিল,  ২০১৯ মে মাসে হঠাৎ করেই উত্তরা Multi brand store kayara  তে প্রথম আউটলেট ওপেন করলাম।

Shop: R I V A H Fashion Bar

আসলে বিজনেস করি সেটা কেউ চাইতো না। আগে আরো ২বার শখের বশে শুরু করেছিলাম সেটাতে সবাই সাপোর্ট করেছে , কিন্তু প্রফেশনাল ভাবে করব ওটা চাইতো না। আবায়া ডিজাইন শুরু করার পর যখন অনলাইনে সেল করতাম তখন সেটা কেও চাইতো না। সবার কথা ছিল কি জন্য বিজনেস করবা তোমার তো কোন কিছুর অভাব নাই। আমার প্রথম আউটলেট যখন নেই kayara তে তখন আমার husband কে বলেছি আমি কেমন কাজ করি, কি ডিজাইন করি সে এর আগে কিছুই জানত না। কিন্তু যখন kayara থেকে আমার ড্রেস গুলার লাইভ দেখেছে তখন সে খুব সাপোর্ট করেছিল। তার কাছে আমার কাজ ভালো লেগেছিল এবং আমাকে বলল ঠিক আছে কাজ করছ যখন ভালভাবেই কর। husband এর সাপোর্ট পেয়ে তার পর আরো ৩টি আউটলেট ওপেন করলাম kayara তে। বসুন্ধরা শপিংমল, ধানমন্ডি আর বনানী শাখায়, এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে একটি শপ আছে, এখন আমার মোট আউটলেট ৫ টি।  আমার ডিজাইন করা ড্রেস গুলোর মডেল আমি নিজেই, আমার সকল ফটোশুট মালেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে করে থাকি। আমার কাজে সর্বদা অনুপ্রেরণা দেয় আমার বড় ছেলে,আমার বড় জা, আমার মা।

Photography: Malaysia

আসলে বিজনেস করি সেটা কেউ চাইতো না। আগে আরো ২বার শখের বশে শুরু করেছিলাম সেটাতে সবাই সাপোর্ট করেছে , কিন্তু প্রফেশনাল ভাবে করব ওটা চাইতো না। আবায়া ডিজাইন শুরু করার পর যখন অনলাইনে সেল করতাম তখন সেটা কেও চাইতো না। সবার কথা ছিল কি জন্য বিজনেস করবা তোমার তো কোন কিছুর অভাব নাই। আমার প্রথম আউটলেট যখন নেই kayara তে তখন আমার husband কে বলেছি আমি কেমন কাজ করি, কি ডিজাইন করি সে এর আগে কিছুই জানত না। কিন্তু যখন kayara থেকে আমার ড্রেস গুলার লাইভ দেখেছে তখন সে খুব সাপোর্ট করেছিল। তার কাছে আমার কাজ ভালো লেগেছিল এবং আমাকে বলল ঠিক আছে কাজ করছ যখন ভালভাবেই কর। husband এর সাপোর্ট পেয়ে তার পর আরো ৩টি আউটলেট ওপেন করলাম kayara তে। বসুন্ধরা শপিংমল, ধানমন্ডি আর বনানী শাখায়, এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে একটি শপ আছে, এখন আমার মোট আউটলেট ৫ টি।  আমার ডিজাইন করা ড্রেস গুলোর মডেল আমি নিজেই, আমার সকল ফটোশুট মালেশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে করে থাকি। আমার কাজে সর্বদা অনুপ্রেরণা দেয় আমার বড় ছেলে,আমার বড় জা, আমার মা।

আমি একটি কথা বলব উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে

যখন শুরু করি তখন আমার কিছু জমানো টাকা ছিল, ৩৫০০০ টাকা দিয়ে শুরু করি। আমার টাকা যেহেতু আমার ব্যক্তিগত বা সংসারের প্রয়োজনে খরচ করতে হতনা তাই এর থেকে আসা লভ্যাংশ আমি সর্বদাই রোলিং করতাম,এখনও তাই করি। তবে যখন শপ নিয়েছি তখন আমার husband টাকা দিয়েছে। এখন আমার ডিজাইন করা ড্রেস তৈরিতে আমার ছোট ফ্যাক্টরিতে ৬ জন স্থায়ীভাবে মাসিক বেতনে কাজ করছে, ৫ টি শপে বিক্রয়কর্মী আছে ও অস্থায়ীভাবে কাজ করছে আরো প্রায় ৫ জনের মত। আমার স্বপ্ন R i v a J fashion bar কে আমি প্রতিটি জেলায় আমার স্বপ্নকে ছড়িয়ে দিতে, আর যারা নতুন নারী উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের কে সাথে নিয়ে কাজ করার আমার স্বপ্ন।

“জীবনে অনেক বাধা আসবে, অথবা সঠিক সময়মত /আপনার পরিকল্পনা মত সব কিছু নাও হতে পারে।, তাই বলে সপ্ন দেখা বন্ধ করবেননা, সপ্ন গুলোকে মরে যেতে দিবেন না, চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, সফলতা আসবেই ইনশাআল্লাহ”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here