এফ কামার্স ব্যবসা কি?
সহজ ভাষায়, ফেসবুক পেইজের ম্যধমে কোন পন্য বা সেবা বিক্রি করার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করাটা হচ্ছে এফ কামর্স ব্যবসা।

কেন এফ কমার্স ব্যবসা করবেনঃ-

১. শুরু করতে খুব বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় না।
২. কোন অফিস, গোডাউন বা অনেক কর্মীর প্রয়োজন হয় না।
৩. সহজে কাস্টমার পাওয়া যায়, অতিরিক্ত মার্কেটিং খরচ ছাড়া।
৪. যে কোন কাজের পাশাপাশি ব্যবসাটি করা যায়।
৫. ব্যবসাটি খুব সহজে প্রসারিত করা যায় দেশব্যাপী।
৬. পণ্য ও আইটি নিয়ে একটু ভালো ধারনা থাকলে লস করার সম্ভাবনা নেই।
৭. আপনার নিজস্ব সময় মত ব্যবসাটি অপারেট করতে পারবেন।
ইত্যাদি অনেক কারন আছে

এফ কমার্সের মূল চালক ফেসবুক পেইজ। পেইজটা যত সুন্দর, রেসপন্সিভ, এবং ট্রান্সপারেন্ট হবে তত কাস্টমার আপনার দিকে ঝুকবে।

জেনে নিন কিভাবে একটি আকর্ষণীয় পেইজ তৈরি করা যায়ঃ-

১. শপ ক্যাটাগরিতে পেইজ খুলতে হবে।

২. সুন্দর ও আকর্ষনীয় প্রোফাইল লোগো দিতে হবে।

৩. কাভার ফটো খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পেইজের জন্য। এখানে আপনি কি পন্য সেল করছেন, আপনার সেলস পলিসি কি, পন্যের প্রাইস এবং কাস্টমার আপনার থেকে পন্য কিনলে কি সুবিধা পাবে তথ্য গুলো যদি কয়েকটা বাক্যে তুলে ধরে আকর্ষণীয় কাভার ফটো তৈরি করতে হবে। ফেসবুকের কাভার ফটোর রুলস ও সাইজ দেখে নিতে হবে। কাভার ফটোটি ফেসবুক টেক্স চেকারে দিয়ে চেক করে নিতে হবে।  

৪. শপ টেম্পেলেট ব্যবহার করবেন। এবং আপনার পন্য শপ ক্যাটাগরিতে লিস্ট করে রাখবেন যেন কাস্টমার পেজে এসে সকল পণ্য দেখতে ও বিস্তারিত জানতে পারে।

৫. পেজে সকল তথ্য দিবেন, অ্যাবাউট লিখবেন, কোন তথ্য বাদ রাখা ঠিক হবে না।  

৬. আপনার সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যম বেশি রাখবেন। ফোন, মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, পেজে ম্যাসেজ অপশন যত গুলো পারা যায়। যেন কাস্টমার আপনার সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারে৷

৭. পেজ খুলেই যেখান থেকে সেখান থেকে বুষ্ট করা একটা পাগলামি। এই ভুল করবেন না। প্রথম ১৫ দিন অর্গানিক রিচ করাবেন। পোস্ট, ভিডিও, পিন পোস্ট, প্রতিদিন কমপক্ষে ২ টা করে পোস্ট করবেন। এরপর বুষ্ট করবেন। সেটার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পথ আছে। পেজে ১০ লাখ লাইক কিন্তু কোন পোস্ট করলে ১০ লাইক এই পেজে কোন লাভ নাই৷ একটা পোস্ট করলে পেজে ৫০০০ লাইক থাকলেও ১০০ লাইক ও কমেন্ট পড়বে তখন পেজের মূল্য আছে। বুষ্ট করার বিষয় আরো একটা পর্ব লিখবো।

৮. ৯০% কাস্টমার তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর চায়, না পেলে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে সেলস কমে এবং পেজের গ্রোথ খারাপ হয়। এজন্য চ্যাটবোড ব্যবহার করবেন সেখানে সকল প্রশ্ন উত্তর সাজিয়ে রাখবেন। আপনি না থাকলেও কাস্টমার উত্তর পেয়ে যাবে। চ্যাটবোটঃ চ্যাট ফুয়েল, মেনি চ্যাট ইত্যাদি

৯. ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম রাখবেন এতে কাস্টমারের আগ্রহ বাড়বে।

১০. পেজে সুন্দর সুন্দর কন্টেন্ট দিতে হবে। যেন সেখান থেকে মানুষ কিছু শিখতে পারে এবং আপনার কাস্টমার হয়। কন্টেন্টে সবসময় ৮০% তথ্য দিবেন এবং ২০% আপনার পন্য সেলের বিষয় লিখবেন। মানুষ নতুন কিছু শিখতে এবং জানতে ভালবাসে,এতে আপনি ভাল মানের কাস্টমার পাবেন এবং লং টার্ম কাস্টমার গুলো স্থায়ী হবে।

১১. ফেসবুক পেইজটি হলো আপনার শপ, সুতারং এর ডেকোরেশন যত সুন্দর ভাবে করতে পারবেন, কাস্টমারে নজর তত দ্রুত আপনার পেইজে ও প্রোডাক্টে পড়বে।

১২. এফ-কমার্স ব্যবসা করতে হলে আপনার পেইজ আকর্ষণীয় হতেই হবে, এখন যে সকল কাস্টমারগণ অনলাইনে কেনাকাটা করে তারা পেইজে ঢুকেই খোজে পেইজটা বিশ্বসত্ব কিনা, পেইজটা বিশ্বসত্ব করতে হলে পেইজে ভালো ভালো রিভিউর প্রয়োজন, সুতারং আপনার পরিচিতজন ও কাস্টমারদের কে বলে রিভিউ বাড়িয়ে নিতে হবে।

আজ এফ-কমার্স নিয়ে এতটুকুই, পরবর্তি পর্বে এডভান্স বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনার ব্যবসাকে আরো গতিশীল ও সুন্দর ভাগে গুছাতে সহায়ক হবে, ইনশাহআল্লাহ।

পর্ব ২ঃ- কিভাবে ইফেক্টিভ পন্য সিলেক্ট করা যায়?

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here